আন্তজাতিক খবর

লোহার গাড়িতে বসে ভিক্ষা, কিন্তু মালিক তিনটি বাড়ির

ইন্দোরের ব্যস্ত শরাফা বাজারে এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে এক ব্যক্তি লোহার গাড়িতে বসে, কাঁধে ব্যাগ ঝোলানো, দুই হাতে এক জোড়া জুতা। মানুষ তাঁকে দেখে সহানুভূতিশীল হয়ে কিছুটা দান করতেই রাজি হয়। এই ব্যক্তি কিন্তু কোনো সাধারণ ভিক্ষুক নন।

তিনি হলেন মঙ্গিলাল, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী, যার ধূসর ভিক্ষুকরূপের আড়ালে লুকানো আছে বিপুল অর্থ ও সম্পত্তি। মঙ্গিলাল দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষা করার একটি নিখুঁত কৌশল আয়ত্ত করেছেন। সরাসরি কিছু চাওয়েন না, শুধু নিরিবিলি বসে থাকেন।লোহার গাড়িতে বসে ভিক্ষা, কিন্তু মালিক তিনটি বাড়িরমানুষ তাঁদের হৃদয়ের উদারতা অনুযায়ী সাহায্য করেন। দৈনিক তাঁর আয় ছিল প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি। কিন্তু সত্যি চমকপ্রদ কিছু সন্ধ্যায় আসে। মঙ্গিলালের ভিক্ষার অর্থ তিনি খরচ করতেন না, বরং সেটি বিনিয়োগ করতেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তিনি অর্থ ধার দিতেন এক দিন বা এক সপ্তাহের জন্য, এবং সন্ধ্যায় সুদসহ অর্থ নিজেই সংগ্রহ করতেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তিনি প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ রুপি ঋণ দিয়েছেন, যেখান থেকে দৈনিক এক থেকে দুই হাজার রুপি আয় হতো।

এছাড়া, মঙ্গিলালের তিনটি বাড়ি রয়েছে, যার মধ্যে একটি সরকারিভাবে বরাদ্দপ্রাপ্ত এবং একটি তিনতলা ভবন। তিনটি অটোরিকশা দৈনিক ভাড়া দেওয়া হয়, এবং মারুতি সুজুকি ব্র্যান্ডের একটি প্রাইভেট কারও রয়েছে, যা ভাড়া দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আবাস প্রকল্পের আওতায় একটি বাড়িও তাঁর নামে আছে, যেখানে শয়নকক্ষ, বসার ঘর ও রান্নাঘর রয়েছে। নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন অভিযান পরিচালনা করেছেন নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তা দিনেশ মিশ্র।

তাঁরা জানিয়েছেন, মঙ্গিলালকে বর্তমানে উজ্জয়নের সেবাধাম আশ্রমে রাখা হয়েছে। তাঁর ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি যাচাই করা হচ্ছে, এবং যেসব ব্যবসায়ী তাঁর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মঙ্গিলাল ২০২১ সাল থেকে ভিক্ষা করছেন। সরকারি জরিপ অনুযায়ী, ইন্দোরে প্রায় ৬,৫০০ ভিক্ষুক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪,৫০০ জন ভিক্ষা বন্ধ করেছেন, ১,৬০০ জনকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭২ শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনা প্রমাণ করে, ভিক্ষার আড়ালে কতটা অভাবনীয় বাস্তবতা লুকানো থাকতে পারে। যেখানে প্রাচীন ধ্যান-ধারণার বাইরে একজন ব্যক্তি ভিক্ষা করে বিপুল সম্পত্তি অর্জন করতে পারে।

FAQs: লোহার গাড়িতে বসে ভিক্ষা, কিন্তু মালিক তিনটি বাড়ির

১. মঙ্গিলাল কে?

মঙ্গিলাল একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, যিনি ইন্দোরের শরাফা বাজারে ভিক্ষা করতেন। তবে ভিক্ষার আড়ালে তিনি তিনটি বাড়ি, তিনটি অটোরিকশা এবং একটি প্রাইভেট গাড়ির মালিক।

২. মঙ্গিলাল ভিক্ষা করে কেন?

তিনি সরাসরি কিছু চাইতেন না; ভিক্ষার অর্থ তিনি বিনিয়োগ করতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতেন এবং সুদসহ আয় করতেন।

৩. মঙ্গিলালের সম্পত্তি কী কী?

তাঁর তিনটি বাড়ি (যার মধ্যে একটি সরকারিভাবে বরাদ্দপ্রাপ্ত), তিনটি অটোরিকশা এবং মারুতি সুজুকি ব্র্যান্ডের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। এছাড়া একটি বাড়ি প্রধানমন্ত্রীর আবাস প্রকল্পের আওতায়।

৪. তিনি ভিক্ষা থেকে কত টাকা আয় করতেন?

প্রতিদিন প্রায় ৪০০–৫০০ রুপি ভিক্ষা করতেন। তবে রাতের সময়ে ঋণ–সুদ ব্যবসা থেকে দৈনিক এক থেকে দুই হাজার রুপি আয় হতো।

৫. মঙ্গিলালের বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থা কী হয়েছে?

উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং তাঁকে উজ্জয়নের সেবাধাম আশ্রমে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তি যাচাই করা হচ্ছে।

৬. ইন্দোরে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের অবস্থা কী?

সরকারি জরিপ অনুযায়ী, ইন্দোরে প্রায় ৬,৫০০ ভিক্ষুক রয়েছেন। এ পর্যন্ত ৪,৫০০ ভিক্ষুক ভিক্ষা বন্ধ করেছেন, ১,৬০০ জনকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং ১৭২ শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র (References): টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button