আন্তজাতিক খবর

৫৯ বছরে সন্তান জন্ম, ঝোউ প্রমাণ করলেন বয়স মানে বাধা নয়

চীনের এক নারী ৫৯ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। তাঁর আগেই একটি সন্তান রয়েছে। ঝোউ নামের এই নারী বলেন, তাঁর প্রথম সন্তান মেয়ে।

মেয়ে বড় হয়ে বিদেশে চলে যাওয়ায় তিনি ও তাঁর স্বামী একাকিত্ব অনুভব করছিলেন। একাকিত্ব কাটানোর জন্য দুবছর আগে তাঁরা নতুন সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ঝোউ গর্ভধারণের জন্য নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করা শুরু করেন।ঝোউতিনি সুষম খাদ্য গ্রহণ ও নিয়মিত ব্যায়ামকে গুরুত্ব দেন এবং ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। দম্পতির বয়স অনেক বেশি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা কম ছিল এবং ঝুঁকিও বেশি ছিল। তবুও তাঁরা আশা হারাননি।

চিকিৎসকের সাহায্যে কয়েক মাসের চিকিৎসার পর ঝোউ আইভিএফ পদ্ধতিতে সফলভাবে গর্ভধারণ করতে সক্ষম হন। গর্ভধারণের সময় চিকিৎসকরা ঝোউয়ের স্বাস্থ্যের বিশেষ যত্ন নেন। তিনি জানান, ‘চিকিৎসকরা নিয়মিত আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতেন।

আমি নিজেকে যেন এক পান্ডার মতো অনুভব করতাম, যাকে যত্নসহকারে রক্ষা করা হচ্ছে।’ তবে গর্ভকালীন সময়ে ঝোউকে নানা শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তাঁর রক্তচাপ বেড়ে যায়, কিডনিতে সমস্যা দেখা দেয়, পা ফুলে যায় এবং অন্যান্য জটিলতাও সৃষ্টি হয়।

গর্ভধারণের প্রায় ৩৩ সপ্তাহ পর চিকিৎসকরা সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ঝোউয়ের সন্তানকে পৃথিবীতে আনেন। ৯ জানুয়ারি ২.২ কেজি ওজনের একটি ছেলে জন্ম নেন। চিকিৎসক গুও মন্তব্য করেছেন, ঝোউ একজন সাহসী মা, যিনি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি গ্রহণ করেছেন।

চীনে বয়সে বেশি মহিলা সন্তান জন্মদানের খবর প্রায়শই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে ঝোউয়ের স্বামী বা তাঁর মেয়ের বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ লোহার গাড়িতে বসে ভিক্ষা, কিন্তু মালিক তিনটি বাড়ির

FAQ: ৫৯ বছরে সন্তান জন্ম, ঝোউ প্রমাণ করলেন বয়স মানে বাধা নয়

১. ঝোউ ৫৯ বছর বয়সে কীভাবে সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হন?

ঝোউ ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) পদ্ধতি ব্যবহার করে গর্ভধারণ করেন। বয়সের কারণে স্বাভাবিক গর্ভধারণের সম্ভাবনা কম ছিল, তাই চিকিৎসকের বিশেষ যত্ন এবং আইভিএফ পদ্ধতি সফলতা আনতে সাহায্য করেছে।

২. বয়স বেশি থাকলে গর্ভধারণে কী ঝুঁকি থাকে?

বয়সী মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভধারণের সময় উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা, গর্ভকালীন জটিলতা, পা ফুলে যাওয়া এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি থাকে। ঝোউও এসব সমস্যার সম্মুখীন হন।

৩. ঝোউ’র প্রথম সন্তান সম্পর্কে কী তথ্য আছে?

প্রতিবেদনে জানা যায়, ঝোউয়ের প্রথম সন্তান মেয়ে। মেয়ে বড় হয়ে বিদেশে চলে যাওয়ায় দম্পতি একাকিত্ব অনুভব করছিলেন। তবে তার আরও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

৪. কী কারণে ঝোউ দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন?

প্রধানত একাকিত্ব কাটানোর জন্য এবং পরিবারের আনন্দ পুনরুদ্ধারের জন্য ঝোউ ও তাঁর স্বামী দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

৫. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা কীভাবে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে?

চীনে বয়সী নারীদের সন্তান জন্ম দেওয়ার খবর প্রায়শই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। ঝোউ’র ঘটনা বিশেষ করে অনুপ্রেরণামূলক এবং চমকপ্রদ হিসেবে আলোচিত হয়েছে।

৬. ঝোউ’র সন্তান কীভাবে জন্ম নেন?

গর্ভকালীন জটিলতার কারণে ৩৩ সপ্তাহে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ২.২ কেজি ওজনের ছেলে সন্তান জন্ম নেন।

৭. ঝোউ’র স্বামী বা মেয়ের সম্পর্কে তথ্য কি জানা গেছে?

প্রতিবেদনে ঝোউয়ের স্বামী বা তাঁর প্রথম সন্তানের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button